
জালাল উদ্দিন লস্কর :
দেশে দিন দিন সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের আগ্রহ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। কোনো গণমাধ্যমে প্রতিনিধি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই অসংখ্য আগ্রহী মানুষের ভিড় দেখা যায়। তবে বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব নিয়োগে থাকে না কোনো বেতন বা সম্মানী। বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিনিধি হওয়ার আশায় আগ্রহীদের কাছ থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমানে কিছু অনলাইন পোর্টাল ও নামসর্বস্ব গণমাধ্যম বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়েই প্রতিনিধি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। পরিচয়পত্র, সামাজিক পরিচিতি এবং দ্রুত পরিচিত হওয়ার আকর্ষণ দেখিয়ে অনেক তরুণকে আকৃষ্ট করা হয়। পরে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়ে হতাশ হন।
সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট ও কার্যকর মানদণ্ডের অভাবও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে অনেকেই মনে করেন, একটি পরিচয়পত্র গলায় ঝুলালেই বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করলেই সাংবাদিক হওয়া যায়। অথচ বাস্তবে সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও দক্ষতাভিত্তিক পেশা।
একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয় তার তথ্য অনুসন্ধান, যাচাই-বাছাই, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনার দক্ষতায় প্রকাশ পায়। সংবাদ পরিবেশনে মৌলিকতা, সত্যতা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা একজন সংবাদকর্মীকে আলাদা পরিচিতি দেয়।
তবে বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার বড় একটি অংশ কপি-পেস্ট নির্ভর হয়ে পড়ছে। অনেকেই মৌলিক সংবাদ তৈরির চেয়ে অন্যের সংবাদ পুনঃপ্রকাশে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে প্রকৃত সংবাদচর্চা ব্যাহত হচ্ছে এবং পেশাটির মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
এছাড়া কিছু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, প্রভাব খাটানো কিংবা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সাংবাদিকতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সাংবাদিক নিয়োগে স্বচ্ছতা, ন্যূনতম যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভুঁইফোড় ও প্রতারণামূলক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে সমাজেরও উপলব্ধি করতে হবে—সাংবাদিকতা কোনো শর্টকাট খ্যাতির পথ নয়; এটি সততা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের পেশা।
কারণ প্রকৃত সাংবাদিকতার মূল্যায়ন হয় কাজের গভীরতায়, সত্য প্রকাশের সাহসে এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়।