

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ চুরির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ ও প্রশাসন। সম্প্রতি সাতছড়ি উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকায় দুটি বড় সেগুন গাছসহ বেশ কয়েকটি মূল্যবান গাছ চুরির খবর প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।
সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মেহেদী হাসান, বন প্রহরী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গাছ চুরির বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। ঘটনাস্থলে কাটা দুটি সেগুন গাছের গোড়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরও প্রায় ১০টি কাটা গাছের চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে এসব গাছ বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কাটা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানা পুলিশ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশে বন থেকে গাছ কেটে পাচার করে আসছে। তাদের দাবি, বন বিভাগের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
পরিবেশবাদী নেতা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “একটি বড় গাছ কাটা মানে শুধু একটি গাছ হারানো নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবেশের ভারসাম্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। এভাবে বন উজাড় চলতে থাকলে সাতছড়ির জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, বন ধ্বংসের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হবে, কমে যাবে বৃষ্টিপাত এবং বাড়বে ভূমিক্ষয়।
সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।”
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।