

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে এখন দৃশ্যমান হচ্ছে উন্নয়নের ছোঁয়া। হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের উদ্যোগে উপজেলার একাধিক চা বাগানে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুপেয় পানির উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে চা শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেউন্দি, চান্দপুর, রামগঙ্গা, চাকলাপুঞ্জি, লালচান্দ, নাসিনাবাদ ও লস্করপুরসহ বিভিন্ন চা বাগানে ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কোথাও ড্রেন নির্মাণ, কোথাও রাস্তার ইট সলিং, আবার কোথাও বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার শ্রমিকরা কাদা-পানি, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগ সংকটে ভোগান্তিতে থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে।
দেউন্দি চা বাগানে গাইড ওয়াল ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চান্দপুর চা বাগানে বাজার পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রামগঙ্গা চা বাগানে দুর্গা মন্দিরের পেছনে ড্রেন নির্মাণের ফলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এছাড়া লালচান্দ ও নাসিনাবাদ চা বাগানে প্রধান সড়কে ইট সলিংয়ের কাজ চলমান থাকায় শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের চলাচল সহজ হচ্ছে। লস্করপুর চা বাগানে মন্দির থেকে আবাসিক এলাকা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুপেন পাল বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের সুপেয় পানির সংকট দূর করতেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি চা বাগানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে, ফলে বহু শ্রমিক পরিবার নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছে।
চা শ্রমিক নেত্রী খাইরুন আক্তার জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এমপি সৈয়দ ফয়সলের কনিষ্ঠ ছেলে শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বিভিন্ন চা বাগান পরিদর্শন করে শ্রমিকদের সমস্যা সরেজমিনে দেখেছিলেন। পরে শ্রমিকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোকে উন্নয়নের আওতায় আনা তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি চুনারুঘাট ও মাধবপুরের অবহেলিত এলাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।