
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার ঠেকাতে পৃথক অভিযানে আসামিসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)। শনিবার ও রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত দিয়ে যাতে ভারত থেকে কোনো ধরনের মাদক ও চোরাচালানি পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ ও ১০ মে পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি।
প্রথম অভিযানে ৯ মে দুপুর ২টার দিকে সিংগারবিল বিওপির একটি টহলদল বিজয়নগর উপজেলার কাশিনগর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় যাত্রাপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মামুনকে (২০) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ভারতীয় ১ হাজার ৯৮৮ পিস ইয়াবা, ৯৯ বোতল ইস্কফ সিরাপ, একটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে তাকে মাদকদ্রব্যসহ বিজয়নগর থানায় সোপর্দ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অপরদিকে, ১০ মে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার আমতলী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট সিগারেট, ৩৫০ কেজি পোস্তদানা, ২ হাজার ৮৫টি চকলেট, ১৬২ পিস কসমেটিকস সামগ্রী এবং ২ হাজার ৬৫৫ কেজি চা পাতা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৯৫ টাকা।
একই দিন সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইব্রাহীমপুর এলাকায় আরও একটি অভিযান চালায় বিজিবি। এ সময় ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেণু পোনাভর্তি ৩৫টি বক্স ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জব্দ করা চোরাচালানি মালামাল আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।