
চুনারুঘাট প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধকরণমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৃথক দুটি স্থানে আয়োজিত এসব সভায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সকালে ঘনশ্যামপুর রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা সাবরিনা সঈদা। মুখ্য আলোচক ছিলেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জার মাহমুদ হোসেন।
এছাড়া আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে পৃথক আরেকটি জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজুর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০১২ সংশোধন করে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে কোনো বন্যপ্রাণী হত্যা বা অবৈধভাবে নিজের কাছে রাখলে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন দুই লাখ টাকা জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই ব্যক্তি পুনরায় এ ধরনের অপরাধ করলে দ্বিগুণ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ অপরাধ জামিন অযোগ্য বলেও উল্লেখ করা হয়।
মুখ্য আলোচক মাহমুদ হোসেন বলেন, সম্প্রতি এলাকায় একটি মেছো বিড়াল নিহত হয়েছে। একটি মেছো বিড়াল জীবদ্দশায় কৃষকের লাখ লাখ টাকার ফসল রক্ষা করতে সহায়তা করে। এটি প্রতিদিন কয়েকটি ইঁদুর শিকার করে, যা কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণী পরিবেশ ও মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই বন্যপ্রাণী হত্যা ও নিধন বন্ধে আরও ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সংবাদকর্মী আব্দুল জাহির মিয়া, আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সঞ্জয় কান্তি দাসসহ বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সভা শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ।