
লাখাই প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সরকারি কলেজের জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক আবেদনকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিনামে জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষসহ ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসে, যার পরপরই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠিয়ে কেন সেই জমি ব্যক্তি নামে কেনা হলো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষ মো. হামজা মাহমুদ একাডেমিক উন্নয়নের জন্য ৫০ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠান। পরবর্তীতে ওই জমি সরকারিভাবে অধিগ্রহণ না করে জমির মালিকের কাছ থেকে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মচারী মিলে ব্যক্তিগত নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রেতা ৭০ হাজার টাকা শতক দরে জমি বিক্রি করলেও দলিলে ৯৫ হাজার টাকা শতক মূল্য দেখানো হয়েছে, যা নথিপত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একে সুপরিকল্পিত কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, কলেজের সীমানার ভেতরের জমি ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, কলেজের নাম ব্যবহার করে জমি কেনা হলে তা পুনরায় কলেজের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তবে অধিগ্রহণের আবেদন থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে জমি কেনার বৈধতা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ হামজা মাহমুদ জমি ক্রয়ের কথা স্বীকার করলেও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।