নিজস্ব প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালদাড়িয়া গ্রামে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মুহিবুর রহমান (২৫) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাবার ওপর অপমানের প্রতিশোধ নিতে পুত্রকে টিউবওয়েলের রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ডোবায় ফেলে দিয়েছিল ঘাতক ফজল মিয়া। দীর্ঘ ৩ বছর পালিয়ে থাকার পর অবশেষে পিবিআই-এর জালে ধরা পড়েছে অভিযুক্ত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ জুন রাতে গান শোনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন আতর আলীর ছেলে মুহিবুর রহমান। পরদিন ২৭ জুন জনৈক চান মিয়ার ডোবা থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা। দীর্ঘ সময় থানা পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।
পিবিআই হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হায়াতুন-নবীর তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পিযুষ কান্তি দেবনাথ ও এসআই আব্দুল আহাদ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক ফজল মিয়াকে (২৭) শনাক্ত করেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ফজল।
স্বীকারোক্তিতে ফজল জানায়, তার বাবার মৃত্যুর পর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুহিবুরের বাবা আতর আলী তাকে সবার সামনে কটু কথা বলে অপমান করেন। পরবর্তীতে একটি গ্রাম্য সালিশে আতর আলীর হস্তক্ষেপে ফজলকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রতিবেশীর পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। এই দুই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই মুহিবুরকে একা পেয়ে টিউবওয়েলের রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে ফজল। পিবিআই-এর এই সাফল্যে দীর্ঘদিনের একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ সুগম হলো।