

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের নির্বাচনী মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় এ আসনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে বলে মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সলের ব্যাপক গণসংযোগ, মানবিক ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব তাকে দলমতের ঊর্ধ্বে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
স্থানীয় ভোটার, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৈয়দ ফয়সলের প্রচারণা শুধু দলীয় কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, নারী, ব্যবসায়ী, চা শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে তার প্রচারণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বতঃস্ফূর্ত জনসম্পৃক্ততা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষভাবে লক্ষণীয়, চা বাগানের শ্রমিক ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা বিএনপির পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
হবিগঞ্জ–৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। এর মধ্যে ২৮টি চা বাগান ও সনাতন সম্প্রদায়ের ভোটার মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ ভোট রয়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, সৈয়দ ফয়সলের পাশাপাশি তার দুই সন্তান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও সৈয়দ শাফকাত আহমেদ নিয়মিতভাবে চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে প্রচারণা চালিয়েছেন।
তারা শ্রমিকদের সমস্যা শুনেছেন, জীবনযাত্রা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। এর ফলে ২৮টি চা বাগানের শ্রমিকরা একযোগে ধানের শীষের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।
একইভাবে চুনারুঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছেন এবং সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে উৎসাহিত করছেন। এতে পুরো এলাকায় নির্বাচনী উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
চুনারুঘাটের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান বলেন, সৈয়দ মোঃ ফয়সল একজন জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতা। চুনারুঘাটের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে জনগণ এবার তাকে নির্বাচিত করতে ঐক্যবদ্ধ। তিনি আরও জানান, ২৩টি চা বাগানে সৈয়দ শাফকাত আহমেদের নেতৃত্বে ব্যাপক গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল কামাল বলেন, ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি গ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। মাধবপুরে ধানের শীষে ভোট দিতে মানুষের মধ্যে সত্যিকারের উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী মনোজ পাল বলেন, সৈয়দ ফয়সল নির্বাচিত হলে এলাকায় উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ কারণেই সনাতন ধর্মাবলম্বী অনেকেই তাকে সমর্থন করছেন।
মাধবপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহজাহান বলেন, জাতি–ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছে ভোট চাওয়া হয়েছে। সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য মাধবপুর–চুনারুঘাট গড়াই আমাদের লক্ষ্য।
সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা বাগানের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। তাদের কষ্টের জীবন আমরা খুব কাছ থেকে দেখেছি। বিএনপি সরকার গঠন করলে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নত করা হবে।
সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, প্রতিটি অলিতে–গলিতে গিয়ে ধানের শীষের প্রচারণা করেছি। নারী–পুরুষসহ সব শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।
বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, আমার জন্য অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ধানের শীষ বিজয়ী হলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মাধবপুর–চুনারুঘাটবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখব।