

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের ভোটের মাঠ। হাটবাজার, চায়ের দোকান, চা বাগানের লাইনঘর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, কার দিকে যাবে এই আসনের ভোট। বিশেষ করে ধানের শীষ প্রতীককে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে সরব আলোচনা।
এই আসনের ২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মোট ভোটার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। শুরুতে ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম থাকবে বলে ধারণা করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনা ও বিশ্লেষণ। কে হবেন আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি এবং তিনি জনগণের জন্য কী করবেন—এসব প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে ২৩টি চা বাগানের প্রায় ৭৫ হাজার ভোট এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটাররা। সব মিলিয়ে এই দুই গোষ্ঠীর ভোট প্রায় দেড় লাখ বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে এই ভোটব্যাংক আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। যদিও এবার দলটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তবু তাদের বিপুল ভোটব্যাংক এখন অন্য প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকছে।
চা শ্রমিক ও সনাতন সম্প্রদায়ের অনেক ভোটার এবার প্রকাশ্যে নিজেদের মতামত দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, ভোট দিয়ে এমন একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চান যাকে প্রয়োজনে কাছে পাওয়া যাবে এবং জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ মো. ফয়সল। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি গ্রামগঞ্জ, চা বাগান ও বাজারে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন।
শুরুতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সাংবাদিক অলি উল্লাহকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও জোটগত সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে খেলাফত মজলিশকে সমর্থন দিয়েছেন। এতে নির্বাচনের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরি এবং খেলাফত মজলিশের প্রার্থী আহমেদ আব্দুল কাদের। স্থানীয়দের মতে, আহমেদ আব্দুল কাদের এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এবং অতীতে নির্বাচনে অংশ নিয়েও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি। অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন তাহেরির প্রচারণার গতি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে মত ভোটারদের।
তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা হেমন্ত পান বলেন, আমাদের এলাকার মানুষকেই এমপি বানানো দরকার, যাকে সমস্যা হলে সহজে পাওয়া যাবে। ব্যবসায়ী মানিক সরকার বলেন, সৈয়দ মো. ফয়সল এমপি হলে চা শ্রমিক ও সনাতন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, সৈয়দ মো. ফয়সল একজন পরীক্ষিত নেতা। এমপি নির্বাচিত হলে তিনি মাধবপুর–চুনারুঘাটের সার্বিক উন্নয়ন ও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।
নোয়াপাড়ায় গণসংযোগ শেষে সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যেতে চাই। নির্বাচিত হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আজীবন কাজ করব।