বাংলার খবর ডেস্ক : হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্জ সৈয়দ মো. ফয়সল বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সকল ধর্মের মানুষের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সেই বিশ্বাস বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর, বাকশাইর ও মীরনগর গ্রামে আয়োজিত পৃথক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখনই সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পেরেছে।
সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা, নিজস্ব মতাদর্শ লালন করা এবং নিরাপদ জীবনযাপন করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার হরণ বা সংকুচিত করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা দিয়েছেন। সেই বাংলাদেশে কৃষক, শ্রমিক ও সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং অন্যায়, অত্যাচার ও হিংসার কোনো স্থান থাকবে না।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় তিনি মাধবপুর ও চুনারুঘাট এলাকার মানুষের পাশে রয়েছেন। জেল-জুলুম, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কখনো জনগণকে ছেড়ে যাননি।
আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে মাধবপুর ও চুনারুঘাটে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জোরপূর্বক দখলদারিত্ব সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। দুর্বলের ওপর সবলের কোনো নির্যাতন তিনি বরদাশত করবেন না বলেও জানান।
তিনি বলেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মাধবপুর–চুনারুঘাটকে একটি নিরাপদ, উন্নত ও আদর্শ জনপদে রূপান্তর করাই তার অঙ্গীকার।
একই দিন সকালে সায়হাম নীট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ সুরমা তেলিয়াপাড়া চা বাগানে চা শ্রমিকদের সঙ্গে এক বিশেষ নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, এলাকার ২৩টি চা বাগানে প্রায় ৭০ হাজার ভোটার থাকা সত্ত্বেও চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সৈয়দ মো. ফয়সল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসনসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নির্বাচনী সভাগুলোতে স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।