পারভেজ হাসান, বাংলার খবর লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় হঠাৎ করেই জেঁকে বসেছে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা। গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের প্রকোপ থাকলেও সোমবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সকাল থেকে সূর্যের কোনো দেখা মেলেনি, বরং সারাদিন বৃষ্টির মতো গুঁড়ি গুঁড়ি কুয়াশা ঝরতে থাকায় পুরো এলাকা ঢেকে যায় হিমেল আবরণে।
ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় উপজেলার স্বাভাবিক জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবীরা শীতের কারণে সকালে কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে দৈনন্দিন আয় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুয়াশার কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। দিনের বেলাতেও ছোট-বড় যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে, যা সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে গবাদি পশুর ওপরও। খামারিরা জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডায় পশু অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ঘাস ও খড় সংগ্রহ করতেও সমস্যায় পড়ছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অসহায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। অনেকেই জানান, আগের দিনের তুলনায় শীতের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে এবং কুয়াশার কারণে শরীর অবশ হয়ে আসছে।
চিকিৎসকদের মতে, এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।