বাংলার খবর ডেস্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই প্রায় প্রতিদিনই নোয়াপাড়া রেলস্টেশন থেকে মোবাইল ছিনতাই বা চুরির কোনো না কোনো অভিযোগ চোখে পড়ত। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই রেলস্টেশনটি এক সময় মোবাইল চোরদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। বারবার অভিযোগ উঠলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছিল না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে নোয়াপাড়া রেলস্টেশনে রেলওয়ে পুলিশের একটি স্থায়ী ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। ফাঁড়ি স্থাপনের পর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে স্টেশনের পরিস্থিতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই এক মাসে নোয়াপাড়া রেলস্টেশন এলাকায় নতুন করে কোনো মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেনি। বরং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে দুইজন চিহ্নিত মোবাইল চোরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
ঢাকাগামী এক যাত্রী নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “আগে এই স্টেশনে এলেই আমাদের মনে ভয় কাজ করত। কখন, কোথায় মোবাইল ছিনতাই হয়ে যায়—এই আতঙ্কে থাকতে হতো। এখন শুনেছি এখানে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি বসেছে। এতে আমরা অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছি। আশা করছি, এখন নিরাপদেই যাতায়াত করতে পারব।”
উল্লাপাড়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা জানান, আগে নোয়াপাড়া রেলস্টেশনে মোবাইল চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটত। তবে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পর গত এক মাসে এখন পর্যন্ত কোনো চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “এরই মধ্যে আমরা দুজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের লক্ষ্য এই এলাকা ও রেলস্টেশনকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত করা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, নোয়াপাড়া রেলস্টেশনে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের ফলে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত টহল ও অভিযানের মাধ্যমে এই ধারা অব্যাহত থাকলে স্টেশনটি যাত্রীবান্ধব ও নিরাপদ এলাকায় পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।